আট দলের আসন সমঝোতায় ধীরগতি: চরমোনাই ইসলামী আন্দোলনের বড় দাবি, জামায়াতের শঙ্কা
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীসহ আট দলের মধ্যে আসন সমঝোতার আলোচনা প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না। শুরুতে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও কোন দল কোন আসনে প্রার্থী দেবে—এই প্রশ্নেই আটকে আছে আলোচনা।
জোট নয়, ‘আসন সমঝোতা’ বলেই দাবি
৩০০ আসনে একক প্রার্থী দেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও আট দল নিজেদের আনুষ্ঠানিক জোট হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে না। তারা এটিকে ‘আসন সমঝোতা’ হিসেবে উল্লেখ করছে। আলোচনায় অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলনসহ আরও কয়েকটি দল।
জামায়াত নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শরিক দলগুলো মোটামুটি ২৭০টি আসনের দাবি তুলেছে, যেখানে জামায়াতের অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্ত। এতে জামায়াতের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
চরমোনাইয়ের বড় চাওয়া
সবচেয়ে বেশি আসনের দাবি করেছে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটি শুরুতে ১৫০ আসনের একটি তালিকা দিলেও এখন অন্তত ১২০ আসনে ছাড় চাচ্ছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইসলামী আন্দোলন ১২০ আসনে এবং জামায়াত ১৩০ আসনে প্রার্থী দেবে—বাকি আসন অন্যান্য দলকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে এই প্রস্তাবে জামায়াত সম্মতি দেয়নি।
জামায়াতের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, নিজেদের জরিপ অনুযায়ী তারা অনেক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার শক্ত অবস্থানে রয়েছে। অতিরিক্ত আসন ছাড় দিলে নির্বাচনে টিকে থাকা কঠিন হবে।
শরিক দলগুলোর দাবিও চাপে ফেলছে আলোচনা
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস প্রায় ৫০টি আসন দাবি করছে। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, ২৫টির কম আসনে তারা রাজি নন। অন্যদিকে খেলাফত আন্দোলন ও আরও কয়েকটি দলও নির্দিষ্ট সংখ্যক আসনের দাবি তুলেছে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে—যে আসনে যে দলের জয়ের সম্ভাবনা বেশি, সেখানে সেই দলকেই প্রার্থী করা হবে।
সাবেক জাপা ও আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠদের নিয়ে অস্বস্তি
আসন সমঝোতার আলোচনায় আরেকটি বড় জটিলতা তৈরি হয়েছে কিছু সাবেক জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ নেতাকে প্রার্থী করার প্রস্তাব ঘিরে। বিশেষ করে যেসব নেতা অতীতে বিতর্কিত নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের মনোনয়ন দেওয়া নিয়ে জামায়াত অস্বস্তিতে রয়েছে।
আলোচনা চলমান, সিদ্ধান্তের আশ্বাস
আট দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, এখনো সব বিষয়ে আলোচনা চলছে। মনোনয়নপত্র দাখিলের আগেই ৩০০ আসনে একক প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের নেতারা বলছেন, বাকি বিভাগগুলোর আলোচনা শেষ হলে আসন সংখ্যা নিয়েও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
আসন্ন নির্বাচনের আগে আট দলের এই সমঝোতা প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রতিটি দলের দাবি ও আসন বিন্যাস নির্বাচনের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
